ক্রিকেটেও ক্লাব বিশ্বকাপের সম্ভাবনা দেখেন গ্রায়েম স্মিথ
· Prothom Alo

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ মনে করেন, আধুনিক ক্রিকেটে বিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হলো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট শুরুর পর বিভিন্ন দেশেও এর আদলে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ শুরু হয়। স্মিথ মনে করেন, বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে নিয়ে ক্রিকেটে ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ আছে।
টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও জয় পাওয়া স্মিথ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ এসএ২০-তে কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন। ওয়েবসাইট অলিম্পিক ডটকমের সঙ্গে আলাপে স্মিথ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রভাব ও ২০২৮ অলিম্পিকে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন।
Visit newsbetting.bond for more information.
২০০৮ সালে শুরু হওয়া আইপিএল বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে ক্রিকেট খেলা উপস্থাপনার ধরন বদলে দিয়েছে। স্মিথের ভাষায়, ‘আইপিএল সবকিছু বদলে দিয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে একটি লিগ কতটা বড় হতে পারে, ভক্তদের কতটা সম্পৃক্ত করতে পারে এবং খেলার মান কতটা উঁচুতে নিতে পারে, তা আইপিএলই দেখিয়েছে। এরপর আসা প্রতিটি নতুন লিগই আইপিএলের মডেল থেকে কিছু না কিছু শিখেছে।’
স্মিথ মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার লিগগুলো আইপিএলের নিলাম পদ্ধতি ও কাঠামো থেকে অনুপ্রাণিত। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রিকেটে এমন চার–পাঁচটি শীর্ষ সারির লিগ থাকবে, যাদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকবে এবং এই পিরামিডের শীর্ষে থাকবে আইপিএল।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আইপিএলক্রিকেটেও কি আসছে ক্লাব বিশ্বকাপ
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই জোয়ারে স্মিথ একটি নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অদূর ভবিষ্যতে ফুটবলের আদলে ক্রিকেটেও ক্লাব বিশ্বকাপ দেখা যেতে পারে। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া স্মিথের ভাষায়, ‘ভবিষ্যতে অনায়াসেই ক্লাব বিশ্বকাপের মতো কোনো টুর্নামেন্ট আমরা দেখতে পারি। ভাবুন তো, আইপিএল, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশসহ অন্যান্য বড় লিগের চ্যাম্পিয়ন দলগুলো একে অপরের বিপক্ষে খেলছে!’
স্মিথ মনে করেন, ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট দর্শকদের জন্য নতুন রোমাঞ্চ নিয়ে আসবে ও টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের বৈশ্বিক আবেদন আরও বাড়িয়ে তুলবে। ৪৫ বছর বয়সী সাবেক এ ওপেনারের ভাষায়, ‘এখন অনেক লিগেই যেহেতু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ব্যক্তিগত মালিকানা রয়েছে, তাই এই ভাবনার দারুণ সম্ভাবনা আছে। অবশ্যই এমন কিছু বাস্তবে রূপ দেওয়ার আগে অনেক কাজ করতে হবে, তবে এর ভিত্তিটা কিন্তু তৈরিই আছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট পুরোপুরি নতুন এক ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে।’
মোস্তাফিজের শূন্যতা পূরণে আইপিএলে যোগ দিয়ে পিএসএলে দুই বছর নিষিদ্ধ মুজারাবানিস্মিথের কাছে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের জয়জয়কার অবধারিতই মনে হয়েছে। বিশ্বজুড়ে টেলিভিশনের দর্শক বৃদ্ধি ও ক্রিকেটে ব্যক্তিগত বিনিয়োগের জোয়ারে গত এক দশকে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের দাপট দ্রুতগতিতে বেড়েছে। ক্রিকেটের এই নতুন কাঠামোয় গ্রায়েম স্মিথ বিশ্বাস করেন, আইপিএলের প্রভাব থাকবে সবার ওপর। তাঁর ভাষায়, ‘পিরামিডের চূড়ায় আছে আইপিএল। বিশ্বের সেরা ক্রিকেটাররা সেখানে খেলেন এবং আসরটি ঘিরে থাকে তুমুল আগ্রহ। অন্য লিগগুলোও সফল হতে পারে, তবে সূচি এমনভাবে সাজাতে হবে যেন লিগগুলো একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে।’
২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে ফিরবে ক্রিকেটঅলিম্পিকে ক্রিকেট: নতুন প্রজন্মের নতুন স্বপ্ন
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আধিপত্যের মাঝেও অলিম্পিকে ক্রিকেটের ফেরাকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন স্মিথ। ১৯০০ সালে প্যারিস অলিম্পিকের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট।
স্মিথ এ নিয়ে বলেন, ‘এত বছর ক্রিকেট–বিশ্বের অংশ ছিল না অলিম্পিকে।
ক্রিকেটাররা বেড়ে উঠেছে বিশ্বকাপ বা আইপিএলে খেলার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু নোভাক জোকোভিচের মতো অ্যাথলেটদের দিকে তাকালে দেখবেন, অলিম্পিকে সোনা জয় তাঁর জন্য কতটা আবেগের। এমনকি যেসব খেলায় আগে থেকেই বড় বড় টুর্নামেন্ট আছে, সেখানেও অলিম্পিকের জায়গাটা সব সময়ই বিশেষ।’
২০২৮ সালের ১২ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেয়ারপ্লেক্স ভেন্যুতে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেটে ৬টি করে দল খেলবে। স্মিথের বিশ্বাস, অলিম্পিক পদকের হাতছানি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য এক নতুন রোমাঞ্চ নিয়ে আসবে। স্মিথের ভাষায়, ‘এখনকার তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে অলিম্পিক সোনা জয়ের সুযোগ খেলাটিতে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রা যোগ করবে। এটি হবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক নতুন স্বপ্ন।’
বিশ্ব ক্রিকেটকে রাজনীতিকরণ করায় ভারতের তীব্র সমালোচনা উইজডেনের