চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকসহ তিন শিক্ষার্থীকে মারধর, গ্রেপ্তার ১

· Prothom Alo

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস থেকে নামিয়ে এক সাংবাদিকসহ তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারধরের ঘটনায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম জাহিন সরকার। তিনি সময় টিভির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। এ ছাড়া তিনি শহীদ ফরহাদ হোসেন হল সংসদের বিজ্ঞান, গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। আহত অপর দুই শিক্ষার্থী হলেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মো. আলিমুল শামীম ও একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর ইসলাম।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাত ১০টার দিকে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৭ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলক্রসিং এলাকায় একটি হোটেলে খাবার খেতে গিয়েছিলেন। খাবার খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে তাঁরা একটি বাসে ওঠেন। তবে কিছুদূর যেতেই স্থানীয় দুজন লোক বাস থামানোর নির্দেশ দেন। এ সময় তাঁরা বাসের মধ্যে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে সাত শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই দুই বাসিন্দার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহিন সরকার মুঠোফোন বের করে ভিডিও করতে থাকলে তাঁকে মারধর শুরু করেন ওই দুই ব্যক্তি। তাঁর মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করেন।

এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে রাতে তাঁদের বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় মামলা করেছেন জাহিন। অভিযুক্ত দুজন হলেন ফতেহপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইউনুসের ছেলে মো. ইমন ও একই ইউনিয়নের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শফিক। এ ঘটনায় রাতেই মূল আসামি মো. ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আহত শিক্ষার্থী মো. আশিকুর ইসলাম বলেন, ‘খাবার খেয়ে ফেরার সময় হঠাৎ বাস থামিয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। আমাদের দিকে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে চড়াও হয়। এরপর তারা জাহিনকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, জাহিন সরকারের বাঁ হাতে গুরুতর আঘাত থাকায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত বাকি দুই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন চাকসুর প্রতিনিধিরা। এ সময় তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, তিনি এ ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে আসামিকে দুই ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে বলেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক মোবারক বলেন, তাঁরা ঘটনার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছেন। হাটহাজারী উপজেলার ১১ মাইল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দ্বিতীয় আসামিকেও ধরার লক্ষ্যে অভিযান চলছে।

Read full story at source