কাফনের কাপড় পাঠিয়ে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তাকে হুমকি, চিরকুটে লেখা, ‘ভৈরব ছেড়ে দিন’

· Prothom Alo

কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসা একটি পার্সেলের মোড়ক খুলতেই ভেতরে দেখা যায় কাফনের কাপড়। সঙ্গে রাখা হয়েছে গোলাপজল, আগরবাতি ও চিরকুট। চিরকুটে লেখা, ‘আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।’

গতকাল রোববার পার্সেলটি পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক। পরে নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে আজ সোমবার তিনি ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

Visit newsbetsport.bond for more information.

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে ভৈরব পৌরসভায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফারুক। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার খন্দকার পাড়ায়। তিনি স্ত্রী–সন্তান নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরের মধ্যপাড়ায় বসবাস করেন এবং সেখান থেকে ভৈরবে এসে দায়িত্ব পালন করেন।

জিডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাঁর বাসার ঠিকানায় একটি পার্সেল আসে। প্রেরকের নামের জায়গায় ‘হরিদাস’ এবং ঠিকানা হিসেবে ‘আশুগঞ্জ’ লেখা আছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্সেলটি বুকিং করা হয়েছিল ভৈরব শাখা থেকে।

মো. ফারুক, ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তানিয়মের বাইরে গিয়ে আমাকে দিয়ে অনেকেই নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কাজ করাতে পারেন না। এতে অফিসের ভেতরে ও বাইরের একটি প্রভাবশালী পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমি ধারণা করছি, আমাকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এই হুমকির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

এ বিষয়ে মো. ফারুক বলেন, ভৈরব একটি গতিশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা। এখানে প্রতিনিয়ত অনেক ধরনের কাজ বাস্তবায়িত হয়, যার সঙ্গে অনেকের বিপুল স্বার্থ জড়িত থাকে।

অবৈধ আয়ের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে ফারুক বলেন, ‘নিয়মের বাইরে গিয়ে আমাকে দিয়ে অনেকেই নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কাজ করাতে পারেন না। এতে অফিসের ভেতরে ও বাইরের একটি প্রভাবশালী পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমি ধারণা করছি, আমাকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এই হুমকির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।’

কর্মচারীদের একাংশের দাবি, ওই নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিটি বিভাগের কাজে অতিরিক্ত নাক গলান। বিশেষ করে যে দপ্তরে তাঁর সরাসরি তদারকির এখতিয়ার নেই, দেখা যায় ওই বিভাগের কাজেও তিনি হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেন। সবকিছুতে এভাবে আগবাড়িয়ে বাড়াবাড়ি করাটা কর্মরতদের অনেকেই পছন্দ করেন না।

এ ঘটনার সঙ্গে কর্মস্থলের অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধের সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে হচ্ছে বলে জানান ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পার্সেলটি বুকিং করার সময় একটি মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নম্বরটি কার বা কোথা থেকে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খুঁজে দেখছি। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

Read full story at source